সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর

পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের এহসান হিসেবে দেয়া হবে ৪% মুনাফা

অভিযোগ জানাতে চালু হচ্ছে হটলাইন

অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ‘এহসান’ হিসেবে ৪ শতাংশ মুনাফা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ‘এহসান’ হিসেবে ৪ শতাংশ মুনাফা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ‘ইসলামী ধারার ব্যাংকিংয়ে লাভ-ক্ষতির ভিত্তিতে মুনাফা দেয়া হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষায় ব্যাংকগুলো হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে। এর পরও সরকার গ্রাহকদের দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে ৪ শতাংশ অনুকম্পা দিচ্ছে। শরিয়াহ্‌ নীতি অনুযায়ী, এটি মুনাফা নয়; বাস্তবতা বিবেচনা করে সরকার “‍‌এহসান” করছে। এটি কোনো অধিকার নয়, বরং সরকারের সদিচ্ছা। এতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকে এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর এ কথা বলেন।

অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংক হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট (এক্সিম) ব্যাংক। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো লোকসান করায় এ দুই বছরের জন্য গ্রাহকদের কোনো মুনাফা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে সমালোচনার মুখে ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এছাড়া ২০২৩ সাল পর্যন্ত আগের নির্ধারিত হারেই মুনাফা থাকবে। আর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ঘোষিত বাজারভিত্তিক মুনাফা দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, ‘গ্রাহকদের জন্য আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ হটলাইন সেবা চালু করতে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে যে কেউ ফোনে, ই-মেইলে অথবা ডাকযোগে তাদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখা হবে। আমরা চাই প্রতিটি গ্রাহক যেন তার ন্যায্য পাওনা বুঝে পায়। প্রশাসনিক দুর্বলতা বা অস্পষ্টতার কারণে কোনো গ্রাহকের যেন অসুবিধা না হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সময় কোনো বার্তা মাঠপর্যায়ে যেতে যেতে কিছুটা বিকৃত হয়ে যায়; এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে এ সমস্যাকে দূর করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন শুরু হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা গ্রাহকদের ঠিকঠাক সেবা দিতে পারছেন কিনা তা দেখা হচ্ছে।’

পাঁচ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার গ্রাহক আন্দোলন করছেন—এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সবার প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। আমরা কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করব। কিছু লোক টাকার মাধ্যমে অন্যদের প্ররোচিত করছে। গুজবে কান দেয়ার দরকার নেই।’

আরও